কালিহাতীতে সরিষার বাম্পার ফলন

0
199

হাসান মাহমুদ,

টাঙ্গাইলের,কালিহাতী উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে সরিষার বাম্পার ফলন। তার মধ্যে গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন বল্লভ বাড়ী সরাতৈল,নিকরাইল এই সব গ্রামে মাঠে মাঠে বিস্তর এলাকাজুড়ে সরিষার ব্যাপক চাষ-আবাদ হয়েছে। হলুদ ফুলে ভরে আছে জমিগুলো। ফুলের মৌ মৌ গন্ধ সুবাস ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়। আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ সকল প্রকৃতি প্রেমিককে। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে, ফলন ভাল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা।

কৃষিপ্রধান উপজেলা কালিহাতী সরিষা ফুলে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। চারদিকে তাকালে যেন সবুজের ফাকে হলুদের সমাহার। কখনো কখনো সরিষার ক্ষেতে বসছে পোকাখাদক বুলবুলি ও শালিকের ঝাঁক। অনেকটা প্রতিকূল আবহাওয়ার পরও এ বছর প্রায় এক হাজার ১শত ৫০একর জমিতে, এক হাজার ৫শত ২৫টন সরিষা চাষ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে বলে জানায় উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সরিষার ফুলে ফুলে ও মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে কালিহাতী উপজেলার চর অন্ঞলে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ফসলি ক্ষেত। ফসলি মাঠের শোভা বাড়িয়ে তুলেছে এসব সরিষার ক্ষেত। মাঠের চারিদিক যেন হলুদ হলুদে পরিপূর্ণ। এক দেখাতেই মন কাড়বে দর্শনার্থিদের। সরিষা ফুলের শোভা আরো বাড়িয়ে তুলেছে অসংখ্য মৌমাছির দল গুণগুনিয়ে মধু আহরণে ব্যাস্ততায়।

কৃষকরা বলছেন, সরিষার গাছ ভালো হয়েছে। ভালো ফুল ফুটেছে বলে ভালো ফলনও আশা করা যায়। সরিষার ফুলে ফুলে হলুদ বর্ণের বর্ণিল জমি গুলোতে আশে পাশে দুর দুরান্ত থেকে স্কুল কলেজের সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকরা বেড়াতে আসছেন। আবার সরিষার ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার জন্য অনেক তরুণ-তরুণীরা ক্যামারা ও ভিডিও মাধ্যমে নিজের ছবির সাথে সরিষার ফুলের ছবি ধরে রাখছেন।

এ বছর অনেকেই আগাম সরিষা চাষ আবাদ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছে এ উপজেলার কৃষকরা। কালিহাতী উপজেলায় সমতল এলাকার বাইরেও পলিঞ্চলে এ বছর সবচেয়ে বেশী সরিষার চাষ করা হয়েছে। বিশাল চরে বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে সরিষার চাষ করে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছে কৃষকরা।বন্যা পরর্বতী সময়ে তাদের মনে এখন নতুন করে আশা সঞ্চার করেছে সরিষা চাষে।

গোহালিয়া বাড়ী ইউপির কৃষক, নুরুল আমিন জানান, এবার ৩ বিঘা জমিতে তিনি সরিষা আবাদ করেছেন। এ আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক অনেক কম লাগে। তার মতে, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলন হবে। তিনি বলেন, সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেল-ই তৈরী করে না। এই সরিষা ভাঙ্গিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভূষি তৈরী হয় যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, গতবছরের চেয়ে এ বছর সরিষা আবাদে অগ্রহী বেশী সংখোক কৃষক। উপজেলার উচু জমির পাশা পাশি পলিঅঞ্চলে বন্যার পর মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর ব্যাপক হারে সরিষার উৎপাদন সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্জগ না থাকলে ও কোনো রকম রোগ বালাই না ধরলে, সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সরকারের সরিষা বীজ প্রনোদনা থাকায় সরিষা আবাদে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে অনেকটাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here